দেশে হামের প্রকোপে ৬২৮ শিশুর মৃত্যুর মাঝেই ৫৭ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। জাবির গবেষণায় ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজারকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে একদিকে যেমন বাড়ছে হামের প্রকোপ, তেমনি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। সরকারি হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সংকটের মাঝেই দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৭ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জুন সকাল পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৭৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৬ জন। এপ্রিল ও মে মাসের ধারাবাহিকতায় জুনের প্রথম সাত দিনেই ৫৭৯ জন আক্রান্ত হওয়া বড় ধরনের বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঝুঁকিতে ঢাকাসহ ৪ জেলা ও বহুতল ভবনের লার্ভা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কীটতত্ত্ববিদদের সাম্প্রতিক ল্যাব গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার জেলা। এসব এলাকায় এডিসের লার্ভার ঘনত্ব মাপার সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে, যেখানে ২০-এর বেশি হলেই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। গবেষকদের মতে, সংগৃহীত নমুনার ৪৮ শতাংশ লার্ভাই পাওয়া গেছে বহুতল ভবনের পার্কিং ও বেজমেন্টে এবং ১৬ শতাংশ মিলেছে নির্মাণাধীন ভবনে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টি না হলেও বহুতল ভবনে গাড়ি ধোয়ার জমে থাকা পানি এবং মগ-বালতির অবিন্যস্ত পানির কারণে ঢাকা শহরে এডিস মশা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে।
ঢাকার দুই সিটিতে রেড অ্যালার্ট
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ‘বর্ষা-পূর্ব লার্ভা জরিপ’ অনুযায়ী, তাদের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই এডিসের ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’। উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) বহুতল ভবনগুলোতেও মিলেছে লার্ভার উচ্চ ঘনত্ব। এ বছর এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যার পরেই ৯৩১ জন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে বরিশাল। তবে এখন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দেশের ৭টি জেলায় কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি।
সরকারের প্রস্তুতি ও বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মত
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখা, পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবন মালিকদের জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। তবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, “শুধু মশা নিধনে জোর দিলে ডেঙ্গু নির্মূল সম্ভব নয়। মশা নিধনের পুরো কার্যক্রমটি মূলত সেই সব হটস্পটে চালানো উচিত, যেখানে ডেঙ্গু ভাইরাসের অস্তিত্ব সক্রিয় রয়েছে।”
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...