চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবেশী ঘাতক আবীর আলীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের জন্ম দেওয়া চট্টগ্রামের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুন করে লাশ টুকরো টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবেশী ঘাতক আবীর আলীর ফাঁসির (মৃত্যুদণ্ড) ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ চার বছরের আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এই মেগা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীর আলী কাঠগড়ায় সশরীরে উপস্থিত ছিল।
এর আগে গত শনিবার এই আদালতের বিচারক উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন অর্থাৎ ১৭ জুন ধার্য করেছিলেন। এই স্পর্শকাতর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি আবীর আলীর নিজের দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, খুনের পর লাশ টুকরো করার কারিগরি আলামত উদ্ধার এবং ৩৩ জন সাক্ষীর অকাট্য জবানবন্দি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে আদালত। আসামির বিরুদ্ধে আনা সবকটি নৃশংস অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেশের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ফুটফুটে কন্যাসন্তান আলিনা ইসলাম আয়াত নির্মমভাবে খুন হয়। মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের জন্য নিষ্পাপ শিশুটির দেহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো টুকরো করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। এই বর্বরোচিত ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডটি তখন পুরো বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...