আইনের ফাঁকে শীর্ষ অপরাধী ও ছিনতাইকারীরা দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১৮,৩২৮ জন গ্রেপ্তার।
শীর্ষ সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজরা বারবার গ্রেপ্তার হলেও আইনের নানা ফাঁকফোকর গলে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসছে। কারাগার থেকে বের হয়েই তারা ফের একই অপরাধে জড়াচ্ছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে পুলিশের মাইকিংয়ের পর জামিনে মুক্ত হওয়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ কাইল্লা ফারুকের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জে কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা এর অন্যতম উদাহরণ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, তারা অপরাধীদের তদন্ত ও আটকের মাধ্যমে ৯০ ভাগ কাজ শেষ করলেও ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের দুর্বলতায় আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সাম্প্রতিক এক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক ও অস্ত্রবাজির মতো গুরুতর অপরাধীরাও দ্রুত জামিন পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে শান্তি রক্ষা কঠিন হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জানান, শুধু পেনাল কোডে মামলা হওয়া এবং বছরের পর বছর চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল না হওয়ায় আসামিরা ২ থেকে ৬ মাসের মধ্যে জামিন পেয়ে যায়। আগে পেশাদার অপরাধীদের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বা সরকারের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে জামিন বিলম্বিত করা হতো, যা এখন দেখা যাচ্ছে না। তিনি জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা এসব অপরাধ ঠেকাতে আইন সংশোধন ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। অন্যদিকে, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক দুর্বল এজাহার ও আইনের ফাঁকফোকর বন্ধের পাশাপাশি অপরাধীদের পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন।
এদিকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তর দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপি ও ডিবি পুলিশ ব্লক রেইড, সাইবার মনিটরিং এবং স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারের কাজ চালাচ্ছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...